মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬, ০৫:২৪ পূর্বাহ্ন
হারুনার রশীদ বুলবুল, কেশবপুর (যশোর): কেশবপুরে অচেনা এক ভাইরাসের দেখা মিলেছে। আর এ ভাইরাসের ব্যবসা করে শত শত মানুষ জীবন জীবিকা নির্বাহি করছে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকার মানুষ বিভিন্ন অঞ্চলে যেয়ে শিশু গাছের ভাইরাসের ডাল কিনে নিয়ে যাচ্ছে ইঞ্জিন চালিত ভ্যানযোগে। এদিকে এই অচেনা ভাইরাসের যোগান দিতে উজাড় হচ্ছে বন ও শত শত সড়কের বনজ বৃক্ষ। কেশবপুর উপজেলা জুড়ে বন বাগানে ও সড়ক মহাসড়কের ধারে রেন্টি/শিশু গাছে এ অচেনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গাছের ডাল পালা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ভাইরাস আসার আগে এলাকার মানুষ গাছের ঐ মরা ডালপালা কেটে নিয়ে জ্বালানি হিসেবে বাড়িতে ব্যবহার করতো। প্রায় বছর খানি আগে এসব শিশু গাছের ডালে দেখা মিলেছে এক অচেনা ভাইরাস।
এখন সেই অচেনা ভাইরাসের বেচাকেনার হিড়িক পড়েছে কেশবপুর উপজেলার বিভিন্ন বাজারে। বিভিন্ন এলাকার শত শত মানুষ ঐ ভাইরাসের কেনা-বেচা করে সংসারের স্বচ্ছলতা ফিরিয়ে এনেছে। বুধবার ১৮ ডিসেম্বর দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে কেশবপুর উপজেলার ৮নং সুফলাকাটি ইউনিয়নের কলাগাছী বাজার ও কাটাখালী বাজারে সহ বিভিন্ন বাজারে মণ মণ এ ভাইরাসের বেচাকেনা হচ্ছে। এ ভাইরাস ২ থেকে ৩ শত টাকা কেজি দরে ক্রয় করে নিয়ে যাচ্ছেন বিভিন্ন অঞ্চলের ক্রেতারা। সুফলাকাটি নারায়ন- পুর, ভেরচীসহ বিভিন্ন বাজারে গিয়ে কথা হয় একাধিক ঐ অচেনা ভাইরাসের ব্যবসায়ীদের সাথে।
তবে বর্তমানে এর চাহিদা অনেক বেড়েছে ও এর বাজার মূল্যও অনেক বেশি। এর নাম কি এমন এক প্রশ্নে তিনি বলেন, ব্যবসায়ীরা এর নাম বলছেন ‘লাহা’। আর এক কেজি লাহা তাদের নিকট থেকে ১৫০ টাকা থেকে ২৫০ টাকা দরে ব্যবসায়ীরা কিনে নিয়ে যাচ্ছে। তার আড়তে প্রতিদিন ২৫/৩০ মণ ভাইরাস বেচা-কেনা হয়ে থাকে। কলাগাছি বাজারের এই লাহা নামের ভাইরাসের ব্যবসায়ী আড়ুয়া গ্রামের সাইফুল্লাহ বলেন, আমরা এর নাম ‘লাখা বলে জানি। তবে আমরা এইটাকে ভালো ভাবে চিনিনা। এলাকার অনেককে দেখে তিনিও এই ব্যবসা করছেন।
তবে এর ব্যবসা করে তিনি খুব লাভবাব হয়েছেন। পাইকারি ব্যবসায়ী সাতক্ষীরা জেলার তালা উপজেলার কপিলমনি বাজারের মফিজুর রহমান, তালা উপজেলার শহরের সবুর শেখ বলেন, এর নাম সঠিক বলতে পারিনা তবে ভারতে এর চাহিদা বেশি। তাদের নিকট থেকে কলারোয়া, বেনাপোল, রাজশাহী, কানশার্ট এলাকার ব্যবসায়ীরা পাইকারি হিসাবে কিনে নিয়ে যাচ্ছে। সপ্তাহে ৩/৪ ট্রাক ভাইরাস তারা বিক্রি করে থাকেন বলে জানান। আর এই ব্যবসা করে অল্পদিনে অনেক টাকার মালিক হয়েছি ও জমি কিনেছে।
কেশবপুরে এই অচেনা ভাইরাসের ব্যাপক চাহিদার কারনে দিনমজুরা বাগান সড়ক মহাসড়কের রেন্টিগাছ, শিশু গাছের ডাল পালা কেটে উজাড় করে ফেলছে। ব্রহ্মকাটি গ্রামের মোহন দেবনাথ, বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের মতলেব খাঁ, রামচন্দ্রপুর গ্রামের ময়েজউদ্দিন, আব্দুল সরদার, সুজাপুর গ্রামের আব্দুল মান্নান, ভোগতি নরেন্দপুর গ্রামের আবু বক্কার সিদ্দিক, আফসার আলী মাল, ছবেদ আলী মাল, শ্রীরামপুর গ্রামের আতিয়ার রহমান সহ অনেকেউ এ প্রতিনিধি কে জানান, অচেনা ভাইরাস শিশু গাছের ডালে দেখা যাচ্ছে। এ ভাইরাস ডালপালা কেটে ফেলার কারণে শিশু গাছ শুকিয়ে মারা যাচ্ছে। এব্যাপারে কেশবপুর উপজেলা বন বিভাগ কর্মকর্তা মোঃ হাবিবুজ্জামান বক্তব্য নেওয়ার জন্য ফোন দেওয়া হলে তিনি বলেন চট্টগ্রাম বনবিভাগের কোন এক গবেষণা গারে এর পরীক্ষা নিরীক্ষা চলছে।